আজকের জুমার বয়ান | এ সপ্তাহের জুমার বয়ান

আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা। আজকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করব সেটি হচ্ছে জুম্মার বয়ান সম্পর্কে। অনেকেই আছে যারা নতুন নতুন জুমার নামাজ পড়াতে চাই, আবার অনেকেই আছে যারা লিখিত জুমার বয়ান পড়তে চায়। তো মূলত তাদের কথা চিন্তা করেই আমার আজকের এই আর্টিকেলটি।

আজকের এই আর্টিকেলে আমি পরিপূর্ণ একটি জুমার বয়ান নিয়ে আলোচনা করব। কাজেই আজকের এই আর্টিকেলটি যদি আপনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তে পারেন, তাহলে আশা করি আপনার একটি জুমার বয়ান ভালোভাবেই আয়ত্ত হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। তো চলুন তাহলে আজকের জুমার বয়ান সম্পর্কিত আর্টিকেলটি শুরু করি।

আজকের জুমার বয়ান | এ সপ্তাহের জুমার বয়ান  আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা। আজকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করব সেটি হচ্ছে জুম্মার বয়ান সম্পর্কে। অনেকেই আছে যারা নতুন নতুন জুমার নামাজ পড়াতে চাই, আবার অনেকেই আছে যারা লিখিত জুমার বয়ান পড়তে চায়। তো মূলত তাদের কথা চিন্তা করেই আমার আজকের এই আর্টিকেলটি।  আজকের এই আর্টিকেলে আমি পরিপূর্ণ একটি জুমার বয়ান নিয়ে আলোচনা করব। কাজেই আজকের এই আর্টিকেলটি যদি আপনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তে পারেন, তাহলে আশা করি আপনার একটি জুমার বয়ান ভালোভাবেই আয়ত্ত হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। তো চলুন তাহলে আজকের জুমার বয়ান সম্পর্কিত আর্টিকেলটি শুরু করি।  আরও পড়ুন ছেলে বাবুর ইসলামিক নাম ভিশন ব্লেন্ডার মেশিন দাম বাংলাদেশ পাপায়া সাবান দাম বাংলাদেশ  জুমার বয়ান কিভাবে শুরু করবো  জুমার বয়ান কিভাবে শুরু করবেন এটা নিয়ে তেমন কোন চিন্তা ভাবনা করার দরকার নেই। অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবে আপনি আল্লাহর প্রশংসায় এবং দুরুদ শরীফ পড়ে বয়ান শুরু করবেন। অতঃপর দুরুদ শরীফ এবং আল্লাহর প্রশংসা করার পরে আপনি যে বিষয়ে আলোচনা করবেন সেই বিষয়ের একটা আয়াত তেলাওয়াত করবেন এবং এই বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত একটি হাদিস তেলাওয়াত করবেন।  অতঃপর আস্তে আস্তে আপনি কথা বলা শুরু করবেন, কোরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা করবেন এবং হাদিসের ব্যাখ্যা করবেন ইত্যাদি। সেই সাথে কোরআনের আয়াত এবং হাদিসের সাথে সম্পৃক্ত কিছু ঘটনাবলী ও বলার চেষ্টা করবেন। এতে করে যারা আপনার বয়ান শুনবে তাদের বিষয়টা সহজ ভাবে বোধগম্য হবে। অর্থাৎ আপনি যেটা তাদেরকে বোঝাতে চাচ্ছেন সেটা খুব সহজেই তারা বুঝতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। তো বন্ধুরা নিচে শুরু থেকে একটি আলোচনা আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।  আজকের জুমার বয়ান  ইন্নাল হামদা লিল্লাহ ওয়াসসালাতু ওয়াস্সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আম্মাবাদ। সম্মানিত মুহতারাম হাজিরিন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা পবিত্র কুরআনের সূরা মুলক এর দ্বিতীয় নাম্বার আয়াতের মধ্যে বলেন। আমি মৃত্যু এবং জন্মকে সৃষ্টি করেছি তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য যে তোমাদের কার আমল কত সুন্দর।  অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা বলেন শুধুমাত্র আমাদের কার আমল সুন্দর এবং কার আমল বেশি উত্তম এটা পরীক্ষা করার জন্যই মৃত্যু এবং জন্ম কে সৃষ্টি করেছে। প্রিয় ভাইয়েরা আল্লাহ চাইলে এই কথা বলতে পারতো যে, কার আমল কত বেশি! কিন্তু এটা না বলে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন কার আমল কত সুন্দর। কাজেই কুরআনুল কারীমের এই আয়াত দ্বারা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে অনেক আমল এর আল্লাহর কাছে কোন মূল্য নাই যদি আমলের মধ্যে তাকওয়া না থাকে। বরঞ্চ অল্প অল্প আমল যে আমলটা সুন্দর তাকওয়াবান হয় সেটাই আল্লাহর কাছে অধিক দামি।  দেখেন বর্ণিত আছে একদিন হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু মাসজিদের মধ্যে বসা ছিলেন, এমন অবস্থায় হযরত জিবরাঈল আঃ মানুষের ভেসে মসজিদে আসলেন। এবং হযরত আবু বকরকে বললেন আবু বকর? আপনি কি এখন বলতে পারবেন যে হযরত জিব্রাইল এখন কোথায় আছে? আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু অল্প কিছুক্ষণ সময় মোরাকাবা করলেন এবং বললেন আল্লাহর কসম! আমি সাত তবক আসমান ভ্রমণ করেছি এবং জমিন ও ভ্রমণ করেছি কোথাও জিব্রাইলকে পাই নাই। কাজেই আমার সামনে যিনি বসা আছেন তিনিই হচ্ছেন হযরত জিব্রাইল আ:।  হযরত জিব্রাইল আবু বকর রা: এর এই কাণ্ড দেখে অবাক হলেন এবং বললেন যে আবু বকর? আপনি এই ক্ষমতা কিভাবে অর্জন করলেন? তখন হযরত আবু বকর বললেন আমার তেমন কোন আমল নাই তবে আমি একটা আমল সর্বদাই মানার চেষ্টা করি বা করার চেষ্টা করি। সেটি হচ্ছে আমি সর্বপ্রথম মসজিদের মধ্যে প্রবেশ করি এবং সবাই নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে চলে যাওয়ার পর সবার শেষে মসজিদ থেকে বাহির হই। হয়তোবা আল্লাহর কাছে আমার এই আমলটাই অতি পছন্দনীয় হয়েছে যার কারণে আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন আমাকে এই ক্ষমতা দান করেছেন।  তো প্রিয় ভাইয়েরা দেখেন সামান্য একটু আমল অর্থাৎ আযানের পর তিনি সবার আগে মসজিদে চলে যেতেন, এবং নামাজ শেষ হওয়ার পর সবাই যখন বাহির হয়ে চলে যেতেন তারপর তিনি সবার শেষে মসজিদ থেকে বাহির হইতেন। আর এই আমলটাই আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় হয়ে গেছেন। কেননা এই আমলটা সুন্দর এবং আল্লাহর কাছে পছন্দনীয়। কোরআনের আয়াতের ভাষ্য এটাই অধিক আমলের থেকে সুন্দর আমল আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়।   এ সপ্তাহের জুমার বয়ান  মুহতারাম হাজিরীন একদিন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাজের পর সাহাবীদের দিকে ফিরে বসলেন। এবং বললেন আবু হুরায়রা কি মসজিদে আছে? এই কথা শোনার পর হযরত আবু হুরায়রা ভয় পেয়ে গেলেন এবং তিনি চিন্তা করতে লাগলেন নবীজির দামী দামী সাহাবী থাকা সত্ত্বেও তিনি আমাকে কেন ডাকলেন? না জানি আমি কোন ধরনের ভুল করে ফেলেছি নাকি? এই ভেবে ভয়ে ভয়ে তিনি বললেন ইয়া রাসুলুল্লাহ আমি উপস্থিত।   তখন নবীজি বললেন আবু হুরায়রা? তুমি এমন কি আমল কর যে আমলের কারণে জান্নাতের মধ্যে আমি তোমার জুতার আওয়াজের শব্দ শুনতে পাই! তখন আবু হুরায়রা চমকে গেলেন এবং বললেন ইয়া রাসুলুল্লাহ আমার তো তেমন কোন আমল নাই। নবীজি বললেন আবু হুরায়রা অবশ্যই তোমার এমন কোন আমল আছে যে আমল আল্লাহর কাছে অনেক পছন্দনীয়। এবং তোমার ওই আমলের কারণেই তুমি দুনিয়ার জমিনে হাটো আর তোমার হাটার আওয়াজ আমি জান্নাতের মধ্যে শুনতে পেরেছি।  এরপর নবীজি সব ঘটনা খুলে বললেন এবং বললেন আমি মেরাজের রজনীতে যখন জিব্রাইলের সাথে ছিলাম, তখন আমি শুনতে পেলাম আবু হোরায়রা তোমার জুতার আওয়াজ বা খরমের আওয়াজ। আমি জিব্রাইলকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন এটা আর কেউ নয় এটা আপনার সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা। সুবহানাল্লাহ।  তখন আবু হুরায়রা বুঝতে পারলেন এবং বললেন ইয়া আল্লাহর রাসূল, আমার তেমন কোন আমল নাই তবে একটা আমল আমি সর্বদাই করার চেষ্টা করি। সেটা হচ্ছে আমি ওযু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করি এবং যখনই মসজিদে প্রবেশ করি দুই রাকাত নামাজ আদায় করি। আর এই আমলটাই আল্লাহর কাছে হয়তোবা অনেক পছন্দনীয় হয়ে গেছে। তো দেখেন মুহতারাম হাজেরিন আবু হুরায়রা এর সামান্য একটা আমল সবসময় করার কারণে আল্লাহর কাছে প্রিয় হয়ে গেছে, এবং মেরাজের রজনীতে নবীজি আবু হুরায়রার জুতার আওয়াজ জান্নাতের মধ্যেও শুনতে পেয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!  জুমার বয়ান বাংলা  প্রিয় ভাইয়েরা আরো একটি ঘটনা আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরছি যে, অধিক আমলের থেকে অল্প আমলেই যদি আপনি কন্টিনিউ করেন তাহলে সেটাই আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় হয়ে যাবে।  একদিন নবীজি বসা ছিলেন, তখন হযরত জিব্রাইল নবীজির কাছে আসলেন এবং নবীজির সাথে কথা বলতেছেন। এমন সময় নবীজির সাহাবী হযরত আবু জর গিফারী চাদর মুড়ি দিয়ে হেটে যাচ্ছিল, তখন জিব্রাইল নবীজি কে বললেন এই তো দেখা যায় আপনার সাহাবী হযরত আবু জর চাদর মুড়ি দিয়ে হেটে যাচ্ছে। তখন নবীজি আশ্চর্য হইলেন এবং বললেন আপনি আমার সাহাবী আবুজরকে কিভাবে চিনেন?   তখন হযরত জিব্রাইল বললেন আপনার সাহাবী আবুজরকে আমি জিব্রাইল একা চিনি বিষয়টা এরকম নয়, বরং আসমানের সমস্ত ফেরেশতারাই আপনার সাহাবী হযরত আবুজরকে চিনেন। সুবহানাল্লাহ! তখন নবী আরো আশ্চর্য হইলেন অবশেষে জানা গেল যে, নবীজির সাহাবী হযরত আবু জর প্রতিদিন সূরা ইখলাসের আমল করে। অর্থাৎ তিনবার সূরা ইখলাস পাঠ করলে এক খতম কোরআন খতমের সওয়াব ওই ব্যক্তির আমলনামায় দেওয়া হয়। আর আবু জর গিফারী প্রতিদিন এত বেশি পরিমাণ সূরা ইখলাসের আমল করার কারণে তার আমল নামায় এত বেশি কোরআন খতমের ছোয়াব জমা হয়েছে যেটা অন্য কারো আমলনামায় জমা হয় নাই।  দেখেন সূরা ইখলাস এর আমল হযরত আবুজর গিফারী বেশি বেশি করার কারণে এই আমলটা আল্লাহর কাছে পছন্দনীয় হয়ে গেছে। যার কারণে হযরত আবু জরকে আকাশের সমস্ত ফেরেস্তারায় চিনে, সুবহানাল্লাহ! তো বাবারা আমার অধিক আমলের থেকে অল্প আমল আল্লাহর কাছে অনেক অনেক প্রিয় যেটা আমরা উপরোক্তা তিনটা ঘটনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে অধিক আমল করার থেকে ভালো আমল করার তৌফিক দান করুক। আমিন।  প্রশ্ন: আজকের জুমার বয়ান কি? উত্তর: আমার আর্টিকেলে আজকের জুমার বয়ান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তুমি চাইলে আমার আর্টিকেলটি পড়তে পারেন।  প্রশ্ন: জুমার নামাজ দুই রাকাত কেন? উত্তর: শরীয়তের বিধানই হচ্ছে জুমার নামাজ হচ্ছে দুই রাকাত, কাজেই শরীয়তের বিধান সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়।   প্রশ্ন: জুম্মার নামাজ কি ফরজ? উত্তর: অপারগ ব্যক্তির উপর জুমার নামাজ ফরজ নয়। তবে পুরুষ, সুস্থ, প্রাপ্তবয়স্ক, জ্ঞানসম্পন্ন, মুকিম ব্যক্তিদের জন্য জুমার নামাজ ফরজ।  প্রশ্ন: জুমার নামাজ কি ওয়াজিব? উত্তর: না জুমার নামাজ ওয়াজিব নয় বরং জুমার নামাজ হচ্ছে ফরজ।  প্রশ্ন: খুতবা শোনা কি ওয়াজিব? উত্তর: হ্যা মুসল্লিদের ওপর জুমার নামাজের আগে যেই খুতবা দেওয়া হয় সেই খুতবা শোনা ওয়াজিব।  আরও পড়ুন সিসি ক্যামেরা দাম কত বাংলাদেশ ড্রোন ক্যামেরা দাম কত রিন পাউডার ৫০০ গ্রাম দাম  শেষ কথা জুমার বয়ান  তো বন্ধুরা আজকের জুমার বয়ান সম্পর্কিত আর্টিকেলের শেষে আমরা চলে এসেছি। আজকের এই আর্টিকেলে পরিপূর্ণ জুমার বয়ান সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আপনি যদি নতুন হয়ে থাকেন বা জুমার আলোচনা করার ব্যাপারে ভয় থাকে তাহলে আমার আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত করতে পারেন। আশা করি আমার আলোচনাটি আজকে আপনি মনোযোগ দিয়ে পড়লে জুমার বয়ান করতে পারবেন ইনশাল্লাহ। আল্লাহ আপনার এলেমে বরকত দান করুক।


আরও পড়ুন

জুমার বয়ান কিভাবে শুরু করবো

জুমার বয়ান কিভাবে শুরু করবেন এটা নিয়ে তেমন কোন চিন্তা ভাবনা করার দরকার নেই। অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবে আপনি আল্লাহর প্রশংসায় এবং দুরুদ শরীফ পড়ে বয়ান শুরু করবেন। অতঃপর দুরুদ শরীফ এবং আল্লাহর প্রশংসা করার পরে আপনি যে বিষয়ে আলোচনা করবেন সেই বিষয়ের একটা আয়াত তেলাওয়াত করবেন এবং এই বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত একটি হাদিস তেলাওয়াত করবেন।

অতঃপর আস্তে আস্তে আপনি কথা বলা শুরু করবেন, কোরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা করবেন এবং হাদিসের ব্যাখ্যা করবেন ইত্যাদি। সেই সাথে কোরআনের আয়াত এবং হাদিসের সাথে সম্পৃক্ত কিছু ঘটনাবলী ও বলার চেষ্টা করবেন। এতে করে যারা আপনার বয়ান শুনবে তাদের বিষয়টা সহজ ভাবে বোধগম্য হবে। অর্থাৎ আপনি যেটা তাদেরকে বোঝাতে চাচ্ছেন সেটা খুব সহজেই তারা বুঝতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। তো বন্ধুরা নিচে শুরু থেকে একটি আলোচনা আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।

আজকের জুমার বয়ান

ইন্নাল হামদা লিল্লাহ ওয়াসসালাতু ওয়াস্সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আম্মাবাদ। সম্মানিত মুহতারাম হাজিরিন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা পবিত্র কুরআনের সূরা মুলক এর দ্বিতীয় নাম্বার আয়াতের মধ্যে বলেন। আমি মৃত্যু এবং জন্মকে সৃষ্টি করেছি তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য যে তোমাদের কার আমল কত সুন্দর।

অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা বলেন শুধুমাত্র আমাদের কার আমল সুন্দর এবং কার আমল বেশি উত্তম এটা পরীক্ষা করার জন্যই মৃত্যু এবং জন্ম কে সৃষ্টি করেছে। প্রিয় ভাইয়েরা আল্লাহ চাইলে এই কথা বলতে পারতো যে, কার আমল কত বেশি! কিন্তু এটা না বলে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন কার আমল কত সুন্দর। কাজেই কুরআনুল কারীমের এই আয়াত দ্বারা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে অনেক আমল এর আল্লাহর কাছে কোন মূল্য নাই যদি আমলের মধ্যে তাকওয়া না থাকে। বরঞ্চ অল্প অল্প আমল যে আমলটা সুন্দর তাকওয়াবান হয় সেটাই আল্লাহর কাছে অধিক দামি।

দেখেন বর্ণিত আছে একদিন হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু মাসজিদের মধ্যে বসা ছিলেন, এমন অবস্থায় হযরত জিবরাঈল আঃ মানুষের ভেসে মসজিদে আসলেন। এবং হযরত আবু বকরকে বললেন আবু বকর? আপনি কি এখন বলতে পারবেন যে হযরত জিব্রাইল এখন কোথায় আছে? আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু অল্প কিছুক্ষণ সময় মোরাকাবা করলেন এবং বললেন আল্লাহর কসম! আমি সাত তবক আসমান ভ্রমণ করেছি এবং জমিন ও ভ্রমণ করেছি কোথাও জিব্রাইলকে পাই নাই। কাজেই আমার সামনে যিনি বসা আছেন তিনিই হচ্ছেন হযরত জিব্রাইল আ:।

হযরত জিব্রাইল আবু বকর রা: এর এই কাণ্ড দেখে অবাক হলেন এবং বললেন যে আবু বকর? আপনি এই ক্ষমতা কিভাবে অর্জন করলেন? তখন হযরত আবু বকর বললেন আমার তেমন কোন আমল নাই তবে আমি একটা আমল সর্বদাই মানার চেষ্টা করি বা করার চেষ্টা করি। সেটি হচ্ছে আমি সর্বপ্রথম মসজিদের মধ্যে প্রবেশ করি এবং সবাই নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে চলে যাওয়ার পর সবার শেষে মসজিদ থেকে বাহির হই। হয়তোবা আল্লাহর কাছে আমার এই আমলটাই অতি পছন্দনীয় হয়েছে যার কারণে আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন আমাকে এই ক্ষমতা দান করেছেন।

তো প্রিয় ভাইয়েরা দেখেন সামান্য একটু আমল অর্থাৎ আযানের পর তিনি সবার আগে মসজিদে চলে যেতেন, এবং নামাজ শেষ হওয়ার পর সবাই যখন বাহির হয়ে চলে যেতেন তারপর তিনি সবার শেষে মসজিদ থেকে বাহির হইতেন। আর এই আমলটাই আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় হয়ে গেছেন। কেননা এই আমলটা সুন্দর এবং আল্লাহর কাছে পছন্দনীয়। কোরআনের আয়াতের ভাষ্য এটাই অধিক আমলের থেকে সুন্দর আমল আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়।

এ সপ্তাহের জুমার বয়ান

মুহতারাম হাজিরীন একদিন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাজের পর সাহাবীদের দিকে ফিরে বসলেন। এবং বললেন আবু হুরায়রা কি মসজিদে আছে? এই কথা শোনার পর হযরত আবু হুরায়রা ভয় পেয়ে গেলেন এবং তিনি চিন্তা করতে লাগলেন নবীজির দামী দামী সাহাবী থাকা সত্ত্বেও তিনি আমাকে কেন ডাকলেন? না জানি আমি কোন ধরনের ভুল করে ফেলেছি নাকি? এই ভেবে ভয়ে ভয়ে তিনি বললেন ইয়া রাসুলুল্লাহ আমি উপস্থিত। 

তখন নবীজি বললেন আবু হুরায়রা? তুমি এমন কি আমল কর যে আমলের কারণে জান্নাতের মধ্যে আমি তোমার জুতার আওয়াজের শব্দ শুনতে পাই! তখন আবু হুরায়রা চমকে গেলেন এবং বললেন ইয়া রাসুলুল্লাহ আমার তো তেমন কোন আমল নাই। নবীজি বললেন আবু হুরায়রা অবশ্যই তোমার এমন কোন আমল আছে যে আমল আল্লাহর কাছে অনেক পছন্দনীয়। এবং তোমার ওই আমলের কারণেই তুমি দুনিয়ার জমিনে হাটো আর তোমার হাটার আওয়াজ আমি জান্নাতের মধ্যে শুনতে পেরেছি।

এরপর নবীজি সব ঘটনা খুলে বললেন এবং বললেন আমি মেরাজের রজনীতে যখন জিব্রাইলের সাথে ছিলাম, তখন আমি শুনতে পেলাম আবু হোরায়রা তোমার জুতার আওয়াজ বা খরমের আওয়াজ। আমি জিব্রাইলকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন এটা আর কেউ নয় এটা আপনার সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা। সুবহানাল্লাহ।

তখন আবু হুরায়রা বুঝতে পারলেন এবং বললেন ইয়া আল্লাহর রাসূল, আমার তেমন কোন আমল নাই তবে একটা আমল আমি সর্বদাই করার চেষ্টা করি। সেটা হচ্ছে আমি ওযু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করি এবং যখনই মসজিদে প্রবেশ করি দুই রাকাত নামাজ আদায় করি। আর এই আমলটাই আল্লাহর কাছে হয়তোবা অনেক পছন্দনীয় হয়ে গেছে। তো দেখেন মুহতারাম হাজেরিন আবু হুরায়রা এর সামান্য একটা আমল সবসময় করার কারণে আল্লাহর কাছে প্রিয় হয়ে গেছে, এবং মেরাজের রজনীতে নবীজি আবু হুরায়রার জুতার আওয়াজ জান্নাতের মধ্যেও শুনতে পেয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

জুমার বয়ান বাংলা

প্রিয় ভাইয়েরা আরো একটি ঘটনা আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরছি যে, অধিক আমলের থেকে অল্প আমলেই যদি আপনি কন্টিনিউ করেন তাহলে সেটাই আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় হয়ে যাবে।

একদিন নবীজি বসা ছিলেন, তখন হযরত জিব্রাইল নবীজির কাছে আসলেন এবং নবীজির সাথে কথা বলতেছেন। এমন সময় নবীজির সাহাবী হযরত আবু জর গিফারী চাদর মুড়ি দিয়ে হেটে যাচ্ছিল, তখন জিব্রাইল নবীজি কে বললেন এই তো দেখা যায় আপনার সাহাবী হযরত আবু জর চাদর মুড়ি দিয়ে হেটে যাচ্ছে। তখন নবীজি আশ্চর্য হইলেন এবং বললেন আপনি আমার সাহাবী আবুজরকে কিভাবে চিনেন? 

তখন হযরত জিব্রাইল বললেন আপনার সাহাবী আবুজরকে আমি জিব্রাইল একা চিনি বিষয়টা এরকম নয়, বরং আসমানের সমস্ত ফেরেশতারাই আপনার সাহাবী হযরত আবুজরকে চিনেন। সুবহানাল্লাহ! তখন নবী আরো আশ্চর্য হইলেন অবশেষে জানা গেল যে, নবীজির সাহাবী হযরত আবু জর প্রতিদিন সূরা ইখলাসের আমল করে। অর্থাৎ তিনবার সূরা ইখলাস পাঠ করলে এক খতম কোরআন খতমের সওয়াব ওই ব্যক্তির আমলনামায় দেওয়া হয়। আর আবু জর গিফারী প্রতিদিন এত বেশি পরিমাণ সূরা ইখলাসের আমল করার কারণে তার আমল নামায় এত বেশি কোরআন খতমের ছোয়াব জমা হয়েছে যেটা অন্য কারো আমলনামায় জমা হয় নাই।

দেখেন সূরা ইখলাস এর আমল হযরত আবুজর গিফারী বেশি বেশি করার কারণে এই আমলটা আল্লাহর কাছে পছন্দনীয় হয়ে গেছে। যার কারণে হযরত আবু জরকে আকাশের সমস্ত ফেরেস্তারায় চিনে, সুবহানাল্লাহ! তো বাবারা আমার অধিক আমলের থেকে অল্প আমল আল্লাহর কাছে অনেক অনেক প্রিয় যেটা আমরা উপরোক্তা তিনটা ঘটনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে অধিক আমল করার থেকে ভালো আমল করার তৌফিক দান করুক। আমিন।

প্রশ্ন: আজকের জুমার বয়ান কি?

উত্তর: আমার আর্টিকেলে আজকের জুমার বয়ান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তুমি চাইলে আমার আর্টিকেলটি পড়তে পারেন।

প্রশ্ন: জুমার নামাজ দুই রাকাত কেন?

উত্তর: শরীয়তের বিধানই হচ্ছে জুমার নামাজ হচ্ছে দুই রাকাত, কাজেই শরীয়তের বিধান সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়।

প্রশ্ন: জুম্মার নামাজ কি ফরজ?

উত্তর: অপারগ ব্যক্তির উপর জুমার নামাজ ফরজ নয়। তবে পুরুষ, সুস্থ, প্রাপ্তবয়স্ক, জ্ঞানসম্পন্ন, মুকিম ব্যক্তিদের জন্য জুমার নামাজ ফরজ।

প্রশ্ন: জুমার নামাজ কি ওয়াজিব?

উত্তর: না জুমার নামাজ ওয়াজিব নয় বরং জুমার নামাজ হচ্ছে ফরজ।

প্রশ্ন: খুতবা শোনা কি ওয়াজিব?

উত্তর: হ্যা মুসল্লিদের ওপর জুমার নামাজের আগে যেই খুতবা দেওয়া হয় সেই খুতবা শোনা ওয়াজিব।

আরও পড়ুন

শেষ কথা জুমার বয়ান

তো বন্ধুরা আজকের জুমার বয়ান সম্পর্কিত আর্টিকেলের শেষে আমরা চলে এসেছি। আজকের এই আর্টিকেলে পরিপূর্ণ জুমার বয়ান সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আপনি যদি নতুন হয়ে থাকেন বা জুমার আলোচনা করার ব্যাপারে ভয় থাকে তাহলে আমার আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত করতে পারেন। আশা করি আমার আলোচনাটি আজকে আপনি মনোযোগ দিয়ে পড়লে জুমার বয়ান করতে পারবেন ইনশাল্লাহ। আল্লাহ আপনার এলেমে বরকত দান করুক।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন