বিল্ডিং করার জন্য সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে রড। অর্থাৎ বিল্ডিং এর মধ্যে যেভাবে অন্যান্য উপকরণের ভূমিকা জরুরী ঠিক সেইভাবে রডের ও সিমেন্টের ভূমিকাও এর চাইতে আরো বেশি অগ্রগণ্য।
যাইহোক বর্তমান সময়ে তেল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে রডের ও সিমেন্টের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে, কিংবা বর্তমানের থেকেও আরো বেশি দাম বাড়ার সম্ভবনা রয়েছে। যাইহোক আসুন আমরা এখন জেনে নেই বর্তমান সময়ে রডের ও সিমেন্টের দাম সম্পর্কে। আমি আজকে যেই দাম আপনাদের সাথে উল্লেখ করবো সেটি একজন রড ও সিমেন্টের ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
রডের দাম বাংলাদেশ ২০২৬
বাংলাদেশের বিভিন্ন ধরনের রড রয়েছে, এবং প্রত্যেকটির মূল্যও বিভিন্ন ধরনের। তো নিচে বিভিন্ন ধরনের ব্র্যান্ডের রড এবং তার মূল্য উল্লেখ করা হলো।
- কে এস আর এম রডের দাম ৯০১০০ টাকা
- এস এস রডের দাম ৮৩৬০০ টাকা
- সি এস আর এম রডের দাম ৮৩৬০০ টাকা
- আকিজ রডের দাম ৮৯১০০ টাকা
- জে এস আর এম রডের দাম ৮৩৫৫০ টাকা
- এ কে এস রডের দাম ৯০৬০০ টাকা
- আনোয়ার ইস্পাত রডের দাম ৮৮১০০ টাকা
- রানি রডের দাম ৮৪১০০ টাকা
- জি পি এস ইস্পাত রডের দাম ৯০১৫০ টাকা
- বি এস আর এম রডের দাম ৯২৬০০ টাকা
- সীমা রডের দাম ৮৪১০০ টাকা
- আর আই সি এল রডের দাম ৮৩৫০০ টাকা
- রহিম স্টিল রডের দাম ৮৬০০০ টাকা
- বি এস আই রডের দাম ৮৩৬০০ টাকা
কোন রড সবচেয়ে ভালো
উপরে বিভিন্ন ধরনের ব্র্যান্ডের রডের দাম উল্লেখ করা হয়েছে। এরমধ্যে সবগুলো ব্র্যান্ডের রড-ই ব্যবহারযোগ্য। তবে এর মধ্য থেকেও কিছু কিছু ব্র্যান্ডের রড রয়েছে যেগুলো মানুষেরা অধিক পরিমাণে ব্যবহার করে এবং গুনে মানে সব দিক থেকে এগিয়ে আছে।
তো সবচেয়ে ভালো রডের মধ্যে রয়েছে কে এস আর এম, বি এস আর এম, এ কে এস ও জিপিএস ইত্যাদি। তবে এটার অর্থ এই নয় যে অন্যান্য ব্র্যান্ডের রডগুলো ভালো না বরং সব ধরনের ব্র্যান্ডের রড গুলোই ভালো কিন্তু অধিক ব্যবহারের কারণে ও দীর্ঘদিন থেকে ভালো সার্ভিস দেওয়ার কারণে কিছু কিছু ব্র্যান্ডের রড উল্লেখযোগ্য হয়ে গেছে। তবে আপনি আপনার চাহিদা বা ইচ্ছামত যেকোন ধরনের রড ব্যবহার করতে পারেন।
সিমেন্টের দাম বাংলাদেশ ২০২৬
যেভাবে রডের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ব্র্যান্ড রয়েছে ঠিক তেমনি ভাবে সিমেন্টের মধ্যেও বিভিন্ন ধরনের ব্র্যান্ড রয়েছে, যার কারণে সিমেন্টের বস্তার দামও বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। তো ভিউয়ার্স বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রতি বস্তা সিমেন্টের দাম নিছে উল্লেখ করা হলো।
- আশা সিমেন্টের দাম ৫২৫ টাকা
- ইস্টার্ন সিমেন্টের দাম ৫৩০ টাকা
- ফ্রেশ সিমেন্টের দাম ৫২০ টাকা
- সেভেন হর্স সিমেন্টের দাম ৫১০ টাকা
- সেভেন রিং সিমেন্টের দাম ৫২৫ টাকা
- আমান সিমেন্টের দাম ৫১০ টাকা
- আকিজ সিমেন্টের দাম ৫৪৫ টাকা
- আনোয়ার সিমেন্টের দাম ৫৪০ টাকা
- শাহ স্পেশাল সিমেন্টের দাম ৫৪০ টাকা
- শাহ পপুলার সিমেন্টের দাম ৫২৫ টাকা
- ক্রাউন সিমেন্টের দাম ৫৪৫ টাকা
- ইঞ্চি সিমেন্টের দাম ৫৫০ টাকা
- স্কেন সিমেন্টের দাম ৫৬০ টাকা
- হোলসিম সিমেন্টের দাম ৫৭০ টাকা
কোন সিমেন্ট সবচেয়ে বেশি ভালো
বাজারে সাধারণত যে সমস্ত ব্র্যান্ডের সিমেন্ট গুলো পাওয়া যায় সকল সিমেন্ট গুলোই ভালো মানের এবং সবগুলো সিমেন্ট-ই বিল্ডিং বা এই সমস্ত ঢালিয়ের কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বা সবচেয়ে বেশি ভালো সিমেন্ট হচ্ছে হোলসিম, শাহ সিমেন্ট, ও ক্রাউন সিমেন্ট ও বসুন্ধরা।
কেননা এই সমস্ত সিমেন্ট গুলো বড় বড় কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আর এগুলোর মধ্যেও সবচাইতে ভালো সিমেন্টের কথা যদি বলতে হয় তাহলে বলবো শাহ সিমেন্টের কথা, কেননা শাহ সিমেন্ট বাংলাদেশের সবচাইতে বড় বড় প্রকল্পগুলিতে ব্যবহার করা হয়েছে। তাই এককভাবে যদি বলতে হয় সবচাইতে কোন সিমেন্ট ভালো? তাহলে নিঃসন্দেহে শাহ সিমেন্টের কথা আসবে।
সিমেন্ট কেনার আগে কী দেখবেন?
সিমেন্ট কেনার আগে অবশ্যই আপনাকে কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য করতে হবে। যেমন আপনি অবশ্যই দেখবেন যে সিমেন্টের ধরন টা কি, এবং সেটি উৎপাদন কখন করা হয়েছে এবং মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ কখন।
সাথে অনেক সময় দেখা যায় দোকানগুলোতে বস্তার মাঝখানে সিমেন্ট জমাট হয়ে যায় তো আর সেটাও লক্ষ্য রাখবেন যেন আপনার কেনা সিমেন্ট গুলো জমাট না হয়। সেই সাথে আপনি যে ব্র্যান্ডের সিমেন্ট কিনতেছেন সেটি অরজিনাল কিনা? এবং সিমেন্টের রং ঠিক আছে কিনা। কেননা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে ডুপ্লিকেট সিমেন্টের বস্তা ও বাজারে পাওয়া যায়।
রড ও সিমেন্ট কোথায় ব্যবহার করা হয়
বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প রাস্তাঘাট ফ্লোর ঢালাই ছাদ ঢালাই ব্রিজ ফিলার সহ বড় বড় প্রকল্পগুলিতে রড ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়। সমস্ত কাজগুলোর ক্ষেত্রে এই দুইটা জিনিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ কেননা রড ও সিমেন্ট ছাড়া কোন দালান কোটা কিংবা ব্রিজ সহ যেকোনো প্রকল্পের কথা বলেন না কেন কোনটাই সম্পূর্ণ হবে না।
রড ও সিমেন্ট কোথায় পাওয়া যায়
রড ও সিমেন্ট সাধারণত তুলনামূলক প্রত্যেক বাজারে বিক্রি করা হয়ে থাকে। যে সমস্ত দোকানে রড ও সিমেন্ট পাওয়া যায় সেই দোকানগুলোকে কনস্ট্রাকশন বা হার্ডওয়ার এর দোকান বলা হয়। তো এই সমস্ত দোকানে খোঁজ করলেই রড ও সিমেন্ট পাওয়া যায়।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে যাদের ইট বাটা রয়েছে অর্থাৎ যারা ইট বিক্রয় করে তারা ইটের সাথে রড ও সিমেন্টও বিক্রয় করে থাকে। তো আপনারা চাইলে তাদের কাছ থেকেও রড এবং সিমেন্ট ক্রয় করতে পারে।
রড ও সিমেন্টের দাম কেন বাড়ে বা কমে
দেশের বর্তমান পরিস্থিতির উপর বিবেচনা করে রড ও সিমেন্টের দাম বাড়ানো হয় বা কমানো হয়। যেমন যখন কিনা তেল গ্যাস বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বেড়ে যায় তখন এই সমস্ত পণ্য অর্থাৎ রড ও সিমেন্টের দামও বেড়ে যায়।
কেননা বাজাজাত ও পরিবহন করার জন্য জ্বালানি তেল ব্যবহার করা হয়ে থাকে, সেজন্য এগুলোর দাম বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে সিমেন্ট ও রডের দাম বৃদ্ধি পেয়ে যায়। এছাড়াও মানুষের চাহিদার উপর ভিত্তি করেও রড ও সিমেন্টের দাম বেড়ে যায়, অর্থাৎ যখন কিনা মানুষেরা অধিক পরিমাণে রড ও সিমেন্ট কেনার জন্য আগ্রহী হয় তখনও এগুলোর দাম বৃদ্ধি পায়।
FAQ
রডের গ্রেড বলতে কি বুঝায়?
রডের গ্রেড বলতে রডের ধারন ক্ষমতা বা মূল শক্তি বুঝায়।
১ টন সমান কত কেজি?
১ টন সমান এক হাজার কেজি।
১ কেজি রডের দাম কত?
১ টন রডের দাম যদি ৯০ হাজার টাকা হয় তাহলে ১ কেজি রডের দাম হচ্ছে ৯০ টাকা। সেই সাথে দুই কেজি রডের দাম ১৮০ ও ৫ কেজির দাম হচ্ছে ৪৫০ টাকা।
এক ব্যাগে সিমেন্টে কত কেজি থাকে?
এক ব্যাগে সাধারণত ৫০ কেজি সিমেন্ট থাকে।
বাংলাদেশের সেরা সিমেন্ট কোনটি?
বর্তমানে বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে সেরা সিমেন্ট হচ্ছে শাহ সিমেন্ট।
সিমেন্ট কত দিন ভালো থাকে?
সিমেন্ট সাধারণত বানানোর পর থেকে সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে। এর পর থেকে ধীরে ধীরে তার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। আর সিমেন্ট যদি খুলে রাখা হয় এবং তাতে বাতাস কিংবা পানির ছিটা পড়ে তাহলে অল্প কয়েক দিনেই সিমেন্ট নষ্ট হয়ে যায়।
আরও পড়ুন
শেষ কথা
রড ও সিমেন্টের দাম নিয়ে আজকে বিস্তারিত বলার চেষ্টা করেছি। তবে যারা রড এবং সিমেন্ট ক্রয় করতে চাচ্ছেন তারা অবশ্যই বর্তমান বাজারে রড ও সিমেন্টের দাম যাচাই করে নিবেন। কেননা এগুলো এরকম প্রোডাক্ট বা জিনিস যেগুলোর দাম প্রত্যেকদিন পরিবর্তন হয়ে থাকে, তাই অবশ্যই কেনার সময় আপডেট দাম জেনে নেওয়া উচিত।
আজকের আর্টিকেলের মত এরকম তথ্যবহুল বিভিন্ন আর্টিকেল পেতে আমাদের টুডে এরাবিক ওয়েবসাইটের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।
Tags:
Info
